April 6, 2020
  • পবিত্র শবে মেরাজ আজ
  • করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭৭৭
  • ‘তারা কেমন ব্যবসায়ী, করোনভাইরাসের ভয়ও নেই’
  • মহামারী নিয়ে রাসূল (সা.)-এর নির্দেশনা
  • করোনাভাইরাস ঠেকাতে খাদ্য সতর্কতা
  • জমে উঠেছে বইমেলা
  • সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করব: মেয়র তাপস
  • বিএনপি গণমানুষের রাজনীতি করতে ব্যর্থ: তথ্যমন্ত্রী
  • ঢাবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মাতৃভাষা দিবস পালিত
  • ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টোনের ৪০ মাসের জেল

‘তারা কেমন ব্যবসায়ী, করোনভাইরাসের ভয়ও নেই’

ponno
বাংলার নিউজ ডট কমঃ করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এমনিতেই করোনাভাইরাসের ভয়, আর ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে আমাদের মাঝে ভয় আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা কী করোনাভাইরাসের ভয় পায় না। ভয় পাইলে তো নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করত না।’

শনিবার (২১) মার্চ বিকেলে বিবার্তাকে কথাগুলো বলেছেন সাবানা নামের এক নারী। তিনি রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পশ্চিম তেজতুরী বাজারের বাসিন্দা।

শনিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে এসে তিনি আরো বলেন, বাজারে দিন দিন নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে আমাদের মত গরিব মানুষ যাবে কোথায়?

আব্দুর রহিম নামের আরেক ক্রেতা বিবার্তাকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার তিনি বাজার করেছেন। ঘরে নিত্যপণ্য শেষ হওয়াতে আজ আমি বাজার করতে এসেছি। কিন্তু বাজারে এসে দাম দেখে কিছু কেনার মন চাচ্ছে না।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০ কেজি চাল কিনতে এসে মাত্র তিন কেজি চাল কিনেছি। এভাবে দাম বৃদ্ধি করলে আমরা যামু কোথায়?’

শুধু সাবানা ও আব্দুর রহিমই নয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন পুরো রাজধানীবাসী। করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। অভিযান করার সময় দাম কমানো হলে পরবর্তীতে আবার দাম বৃদ্ধি করে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, যখন অভিযান শুরু হয়, তখন ব্যবসায়ীরা কম দামে পণ্য বিক্রি শুরু করেন। তবে অভিযান শেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চলে গেলে ফের বেশি দামে পণ্য বিক্রি শুরু হয়।

এছাড়াও করোনাভাইরাসের ভয়ে অনেকেই নিদিষ্ট পরিমানের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করছেন। তবে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকালে ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্র ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য শস্যের মজুদ রয়েছে।

তিনি বলেন, অযথা আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে পণ্য কিনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো গর্হিত কাজ। সবাইকে এই ধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোবেল করোনাভাইরাসের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত করতে না পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনগণকে নজরদারি বাড়াতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করছি যে, আতঙ্কিত হয়ে কিছু লোক অতিরিক্ত মাত্রায় খাদ্যদ্রব্য কিনে সংরক্ষণ করছে। তবে, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, আমাদের কোনো খাদ্য সমস্যা নেই। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তাই, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য কেনার দরকার নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে আগামী এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কেনার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

এদিকে, বাজারে দ্রব্যেমূল্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জাতীয় ভোক্তা অধিদফতরের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছেন তারা।

তাদের মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং পুরান ঢাকা ও বনশ্রীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের কর্মকর্তারা অভিযান চালান।

শনিবার সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

তিনি জানান, অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ ও আলু বিক্রয় করায় যাত্রাবাড়ীর ৩২টি আড়তকে এবং আমদানিকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ মাছ মজুদ করায় একটি হিমাগারকে মোট ৫০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভাবতেই কষ্ট হয় তিন দিন আগেও প্রতি কেজি পেয়াঁজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২৮-৩১ টাকা। আর সেটা কোনো কারণ ছাড়াই গতকাল (শুক্রবার) বিক্রি করেছে ৬৫-৭০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ৮০-৮৫ টাকা। ১২-১৪ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হত আলু, সেটা ২৫-৩০ টাকা ধরে বিক্রি হয়।

তিনি আরো বলেন, আজ সকালে যখন যাত্রাবাড়ী আড়তে ক্রেতা সেজে ইউনির্ফম ছাড়া ফোর্স নিয়ে প্রবেশ করলাম তখনো দেখলাম গতকালের চিত্র। কিন্তু যখনই বুঝল মোবাইল কোর্ট আসছে তখনই পেয়াঁজ হলো ৩৫-৪০ টাকা আর আলু হলো ১৪-১৬ টাকা কেজি।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে অভিযানের পর নির্ধারিত দাম রাখা শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। আমরা আড়ৎ পর্যবেক্ষণ করছি।

এদিকে, র‌্যাবের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

শনিবার দুপুরে পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার মোড়ে অভিযান চালিয়ে এক পাইকারি চাল বিক্রেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ওই ব্যবসায়ীর দোকান সিলগালা করে তাকে রবিবার (২২ মার্চ) অধিদফতরের কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

এছাড়া লালবাগে অভিযান চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অভিযানটি লাইভ করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

এ সময় অভিযান চলাকালে ষাটোর্ধ্ব এক নারী অভিযোগ করেন, তার কাছে বিশ্বাস ব্রান্ডের একটি মিনিকেট চালের বস্তা ২৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। পরে ওই দোকানি ওই চালের বস্তা ২৫৫০ টাকা দরে কিনেছিলেন বলে দাবি করলেও এর কোনো প্রমান দেখাতে পারেনি। পরে তাকে জরিমানা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, ওই ব্যবসায়ীসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিনা কারণে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এক ধরনের ডাকাতি। আমরা আপাতত তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করলাম এবং দোকানটি সিলগালা করে রাখলাম। এটি অন্যান্য অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি একটি কড়া বার্তা।

অপরদিকে, শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনশ্রীর অভিজাত বিপণি-বিতান ‘স্বপ্ন’ সুপারশপে অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন।

তিনি জানান, করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে নিত্যপণ্যের বাজার যেন অস্থিতিশীল না হয় সেজন্য সরকারের নির্দেশে অধিদফতরের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ‘স্বপ্ন’ সুপারশপে অভিযান করা হয়। তবে সেখানে একাধিক ক্রেতাকে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক কেনাকাটা করতে দেখা যায়। ভোক্তারা যেন বেশি পণ্য না কেনেন এজন্য পরামর্শ দিয়েছি। পাশাপাশি স্বপ্নকে সতর্ক করেছি তারা যেন অধিক পণ্য একসঙ্গে বিক্রি না করে। এছাড়া পণ্যের দাম না বাড়ানোর জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

বিভাগ - : অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন