September 20, 2019
  • ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ক্ষতি সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা
  • ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা
  • আছাদুজ্জামানের বিদায়, ডিএমপির দায়িত্বে শফিকুল
  • সংশোধিত পাবলিক ইস্যু রুলসের গেজেট প্রকাশ
  • রিং সাইনের আইপিও লটারির ড্র তারিখ নির্ধারণ
  • রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সদস্য আটক
  • পর্যটনবান্ধব দেশের র‌্যাংকিংয়ে বড় সাফল্য বাংলাদেশের
  • উখিয়ার পাহাড়ে মাটি খুঁড়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
  • শেষ মুহূর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভারতের চন্দ্রযান ২
  • নোয়াখালীর ঠিকানায় পাসপোর্ট, তুরস্ক যাওয়ার চেষ্টা ৩ রোহিঙ্গার

সেই গবেষকের পক্ষে সরব দেশ, নীরব ঢাবি শিক্ষক সমিতি!

hh990
বাংলার নিউজ ডট কমঃ পাস্তুরিত দুধের মান নিয়ে গবেষণা করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুককে হুমকি দেয়াসহ অবমাননার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেয়নি তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক দুধে ক্ষতিকর উপাদান থাকার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার কথা বলেন।

এদিকে অধ্যাপক ফারুকের এ গবেষণা প্রকাশের এক দিন পর সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। তিনি এ রিপোর্টকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। যা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

৩০ জুন ঢাবির ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যানও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ গবেষণার সঙ্গে তাদের বিভাগের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে গবেষণার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরও। ৯ জুলাই প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন গবেষণার নিয়ম না মানা এবং ত্রুটিপূর্ণ গবেষণা করায় আ ব ম ফারুকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন।

অতিরিক্ত সচিবের এমন হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশের সাধারণ মানুষও।

এ প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও বাজার থেকে ১০টি নমুনা নিয়ে ১০টিতেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান অধ্যাপক ফারুক। দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায়ও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রমাণ পাওয়ায় অতিরিক্ত সচিবের সেই হুমকিতে ক্ষেপে ওঠেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দেশের সাধারণ মানুষ।

এবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন হুমকির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়। তারা ঢাবি অধ্যাপক ফারুকের পাশে থাকার কথা জানান এবং দুধ গবেষণাকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ঢাবি অধ্যাপকের সমর্থনে আন্দোলন গড়ে ওঠে।

১৪ জুলাই (রবিবার) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘নিরাপদ খাদ্য চাই, ফারুক স্যারের পাশে দাঁড়াই’ ব্যানারে মানববন্ধনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে ঢাবির ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান বলেন, জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ মনে করেই জনসচেতনতা বাড়াতে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক তার গবেষণার ফল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। সেই বিষয় নিয়ে একজন অতিরিক্ত সচিব যে মন্তব্য করেছেন, আমরা কোনোভাবেই এ মন্তব্যকে সাধারণ মনে করি না। আমরা মনে করি, এই অতিরিক্ত সচিবকে অপসারণ করা দরকার, তার শাস্তি হওয়া দরকার।

১৫ জুলাই (সোমবার) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব’৭১ দুধ নিয়ে গবেষণা করায় ঢাবি অধ্যাপককে হুমকি দেয়ায় অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের বহিষ্কার দাবি করে। এ সময় অধ্যাপক ফারুকের পাশে থাকার ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি।

এ প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহিন বলেন, ফারুক স্যার দুধ নিয়ে গবেষণা করায় তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ হুমকি শুধু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নয়। এ হুমকি সত্যের বিরুদ্ধে। প্রশাসনকে বলতে চাই, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি করে অতিরিক্ত এ সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাকে বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় গৌরব’৭১ অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।

একই দিন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অধ্যাপক ফারুককে অবমাননার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর কথা জানায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এরপর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঢাবি শিক্ষকের পাশে থাকার ঘোষণা দেয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।

১৬ জুলাই (মঙ্গলবার) অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ জন শিক্ষক। একই দিন দুপুরে ঢাবি অধ্যাপককে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা।

এদিন অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুকের পক্ষে বিবৃতিও দিয়েছেন ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতি প্রদানকারীরা হলেন-জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, নাট্যকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ, হাসান ইমাম, শিল্পী রফিকুন নবী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, মফিদুল হক, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, গোলাম কুদ্দুস, হাসান আরিফ।

১৭ জুলাই (বুধবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) নেতৃত্বে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বেশকিছু সংগঠন।

এদিকে দুধ নিয়ে গবেষণায় আলোড়ন সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে পাশে পেয়েছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। অথচ তার অবমাননার প্রতিবাদ ও গবেষণার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেয়নি তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। এ বিষয়টিতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বেলাল মুনতাসির বলেন, এমনিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব একটা ভালো গবেষণা হচ্ছে না। এরপরও যদি ফারুক স্যারের মতো গবেষকদের পাশে শিক্ষক সমিতিসহ বিশ্ববিদ্যালয় না দাঁড়িয়ে নীরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ গবেষণা করতে আগ্রহী হবেন না। শিক্ষক সমিতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত ফারুক স্যারের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে যারা হুমকি দিয়েছে, তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়া।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুর উদ্দিন অনিক বলেন, সবার আগে ঢাবি শিক্ষক সমিতির উচিৎ ছিল ফারুক স্যারের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বিবৃতি দেখিনি। যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পর্যন্ত স্যারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফারুক স্যারের এমন একটি গবেষণাকে উদ্বুদ্ধ ও এটার প্রশংসা না করে উল্টো যারা সেটার সমালোচনা করছেন, তাদের জবাব না দিয়ে নীরব থাকা তার সহকর্মীদের জন্য লজ্জার।

ঢাবি শিক্ষক ড. রায়হান গৌরব’৭১ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফারুক স্যারের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এখনো কোনো প্রতিবাদ লক্ষ করিনি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও কোনো প্রতিবাদ বা প্রেস রিলিজ পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাবির এক শিক্ষক বিবার্তাকে বলেন, ফারুক স্যারের গবেষণায় পুরো দেশ তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নীরব। মনে হয় তাদের এখনো ঘুম ভাঙেনি। শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোই তো শিক্ষক সমিতির কাজ। এটা মনে হয় তারা ভুলে গেছেন। সব কিছুতে রাজনীতি খোঁজা হচ্ছে বলে জানালেন এ শিক্ষক।

এ বিষয়ে জানতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম মাকসুদ কামালকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় আমাদের মিটিং হবে।

বিভাগ - : জাতীয়

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন