January 16, 2019
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে : প্রধানমন্ত্রী
  • ফের সড়ক অবরোধের চেষ্টা, ৮ কারখানায় ছুটি
  • সব দলকে ফের সংলাপে ডাকবেন প্রধানমন্ত্রী : কাদের
  • ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ পাচ্ছে ৪০ হাজার শিক্ষক
  • ‘অপরিকল্পিত ভবন চিহ্নিত করে ব্যবস্থা’
  • ৩০০ আসনের ফলাফল: মহাজোট: ২৮৮ , ঐক্যফ্রন্ট ৭, অন্যান্য ৩
  • তৃতীয়বারের মতো মহাজোটের নিরঙ্কুশ জয়
  • নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে: পর্যবেক্ষক দল
  • শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন নরেন্দ্র মোদি
  • একাদশ জাতীয় নির্বাচন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : ইসি সচিব

”লৌহমানবী শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসছেন”

timephoto
বাংলার নিউজ ডট কমঃ চতুর্থবারের মতো শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। দুই মেয়াদের ধারাবহিকতায় তার সরকারের সময়ে দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের মানুষ আবার তাঁকেই বেছে নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন টাইমের এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ভঙ্গুর হিসেবে দেখানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

টাইম ম্যাগাজিন বলছে, ”বাংলাদেশে ১১তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রবিবার। এতে ৭১ বছরের শেখ হাসিনা অক্সফোর্ড পড়ুয়া ৮২ বছর বয়সী কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ঐক্যফ্রন্টের মুখোমুখি হয়েছেন। যদিও আরেক প্রতিদ্বন্দ্বি ৭৪ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারছেন না। দুর্নীতির দায়ে ১৭ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত খালেদাকে ঢাকার আদালত নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন।”

”প্রায় তিন দশক ধরে পালাক্রমে ক্ষমতা এবং কারাগারের ভেতরে বাইরে রয়েছেন শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। ১৬ কোটি নাগরিকের দেশে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছেন। তবে ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে খালেদার দল বিএনপি।”

প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ”২০১৪ সালের নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে মাত্র ২২ শতাংশ। সংসদের ৩০০ আসনের অর্ধেকেরও বেশিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।”

বাংলাদেশে প্রতি দশজনের একজন ভোটার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ”বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক এই দেশটিতে এবার মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”

টাইম আরো বলছে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচন হচ্ছে। আর এতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতাকালীন প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কামাল হোসেন মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার প্রাথমিক চ্যালেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কামালের ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বার্থকে আকৃষ্ট করছে।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণেও শেখ হাসিনার জয়

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনেও জয় পাবেন শেখ হাসিনা। তার সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। তবে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ রয়েছে।

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্তক্ষয়ী নির্বাচনী প্রচারের পরও শেখ হাসিনার (৭১) প্রধানমন্ত্রী থাকার পক্ষে পরিস্থিতি অনুকূল রয়েছে। বিরোধীরা চলমান পরিস্থিতিকে দেশটির ৪৭ বছরের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বেশি শ্বাসরুদ্ধকর’ বলে উল্লেখ করেছে।

নির্বাচন-পূর্ব কয়েক মাসে শেখ হাসিনার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াসহ বিরোধীপক্ষের অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাগারে আছেন কিংবা গুম হয়েছেন। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও মুক্তমত প্রকাশের সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকাজে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য ভিসা দিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেরি করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন (৮২) বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষের কর্মীদের ওপর পুলিশের হয়রানি নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।’ ড. কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁদের জোটের ৭০ জনের বেশি প্রার্থীর মিছিল ও দলীয় কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। তাঁরা এখন নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে ভয় পাচ্ছেন। এ মাসের শুরুতে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে ফেরার পথে তাঁর নিজের গাড়িবহরেও হামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার প্রথম দিনই সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দুই সদস্য নিহত হন।
শেখ হাসিনা আশা করছেন, ১০ কোটি ভোটার সহিংসতাকে ঘৃণা করে দেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে গুরুত্ব দেবেন। এর মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়া ও গত এক দশকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হওয়ার বিষয় রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির বেশির ভাগই এসেছে দেশের ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস খাত থেকে, যেখানে ৪৫ লাখ মানুষ কাজ করেন। এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ দ্বিগুণ বেড়েছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের সুবিধা বাড়ায় গড় আয়ু ৭২ বছর হয়েছে, যা ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি।

ইতিবাচক হিসাবনিকাশ দেখালেও এ বছরেই রাজধানী ঢাকা দুইবার অচল করে দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা, যা কয়েকজন বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে ব্যাপক অস্থিরতাকে তুলে ধরে। ভোটাররা যদি রোববারের নির্বাচনে বাধাহীন ভোট দিতে পারেন, তবে এর প্রতিফলন ব্যালট বাক্সে দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শাহাব এনাম খান বলেন, বিশ্বের অতি ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় উঠে আসার হার বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। এর অর্থ এই নয় যে নিম্ন আয়ের মানুষেরা সুবিধা পাচ্ছেন।

শাহাবের মতে, গত আগস্ট মাসে অনিরাপদ গাড়ি চালনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়টি দেখা যায়। এ ধরনের অনেক বিষয় নিষ্পত্তিমূলক সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আইনশৃঙ্খলার নামে জননিরাপত্তার বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আছে কি না, তা নির্ধারক হয়ে উঠবে।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, শত শত মানুষকে জোর করে তুলে নেওয়া হয়েছে বা গোপন জেলখানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক ব্যবসার অভিযোগে ৪৫০ জন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

নির্বাচনের আগে ভুয়া প্রচার ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কয়েকবার ইন্টারনেট সেবা সীমিত করেছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরিসি) এক কর্মকর্তা বলেন, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবার গতি কমানো হয়। কয়েক ঘণ্টার জন্য থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করে বিটিআরসির এক কর্মকর্তা বলেছেন, টেলিকম অপারেটরদের বৃহস্পতিবার রাতে থ্রি-জি ও ফোর-জি সেবা বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুয়া প্রচার রোধ ও ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো রোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবশ্য ১০ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক করা হয়।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের অধীনে পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ তুলে নির্বাচনে যেতে অস্বীকৃতি জানায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। ফলে বিদায়ী সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যা ষড়যন্ত্রের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন লন্ডনে থাকছেন।

শেখ হাসিনার সরকার প্রধান বিরোধীদের বিরুদ্ধে ৩ লাখ মামলা করেছে এবং নির্বাচনে তাদের দৌঁড়ের ওপর রেখেছে। শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারও করেছে।

চলতি সপ্তাহে ফেসবুক বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছে, ১৫টি পেজ বন্ধ করে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এ পেজগুলো বন্ধ করা হয়। সেগুলোতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পক্ষে এবং বিরোধীদের বিপক্ষে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল।

অন্য জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টুইটার জানিয়েছে বাংলাদেশে ১৫টি এমন অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া গেছে যে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। এক বিবৃতিতে টুইটার জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরে জানা গেছে, সরকারের মদদে এই কাজ করা হচ্ছে।

বিভাগ - : জাতীয়, রাজনীতি

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন