April 21, 2019
  • বেতনের দাবিতে বাড্ডায় সড়ক অবরোধে পোশাক শ্রমিকরা
  • ‘আমার পিতা শেখ মুজিব’ উৎসবের উদ্বোধন আজ
  • মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১৩
  • ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
  • জরুরি সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
  • পদ্মা সেতুর একাদশ স্প্যান বসবে ২৩ এপ্রিল
  • ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো না : হাইকোর্ট
  • ব্রিটেনে তারেক-জোবাইদার ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ
  • দুর্যোগে করণীয় নিয়ে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ভেস্তে গেছে ব্রেক্সিট নিয়ে বিকল্প সব প্রস্তাব, পদত্যাগে রাজি মে

mm
বাংলার নিউজ ডট কমঃ ব্রেক্সিট চুক্তি পাস হলে পদত্যাগ করবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। তিনি বলেছেন, চুক্তিটি পাশ হলে পরবর্তী ধাপ ইইউয়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণের সমঝোতায় তিনি থাকবেন না।

নিজ দলের এমপিদের সঙ্গে বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তেরেসা মে এ ঘোষণা দেন। তবে পদত্যাগের কোনো দিনক্ষণ উল্লেখ করেননি তিনি।

এদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে এমপিদের আটটি প্রস্তাবের কোনোটিই নিম্নকক্ষের ভোটে স্পষ্ট সমর্থন আদায় করতে পারেনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি কাস্টমস ইউনিয়নের প্রস্তাব, চুক্তি অনুমোদনের জন্য গণভোটের আহবান, নো-ডিল ব্রেক্সিটের প্রস্তাব থেকে শুরু করে ইইউয়ের সঙ্গে শুল্ক কাঠামো রক্ষা করে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তাব সবই বাতিল হয়ে যায়।

এই ফলাফলের কারণে ব্রিটেনের একদিনের নাটকীয় পরিস্থিতির অবসান হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে যদি তার চুক্তি পাস হয়ে যায়, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। অর্থাৎ পার্লামেন্টে ইইউ থেকে ব্রিটেনের প্রত্যাহারের চুক্তি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে।

বুধবারের এই ভোটাভুটি ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্লামেন্টের এতদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করলেও কোন নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছাতে না পারার ব্যাপারটিকে সমালোচকরা ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ব্রেক্সিট গণভোটের রায় অনুযায়ী এ বছরের ২৯ মার্চ ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউয়ের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক কেমন হবে তেমন কিছু শর্ত নির্দিষ্ট করে একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছিল।

কিন্তু পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে তা সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থন আদায় করতে পারেনি।

এরপর গত ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এমপিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে এমন একটি চুক্তি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেন। কিন্তু সেটাও পরাজিত হয়।

এখন তিনি তৃতীয়বারের মতো ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে উত্থাপন করতে চাইছেন। তবে তার আগে তিনি যথেষ্ট সংখ্যক এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে চান ।

এবার মে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ায় অনেক টোরি এমপি, তার চুক্তির প্রতি সমর্থন দিতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেলেও ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করে যাবে।

মে টোরি দলের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমাদের দেশ এবং আমাদের দলের জন্য যা সঠিক তা করার উদ্দেশ্যে আমি আমার দায়িত্ব আগে থেকেই ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, তিনি জানেন যে টোরি এমপিরা তাকে আর ব্রেক্সিটের পরবর্তী আলোচনার নেতৃত্বে দেখতে চান না এবং তিনিও সেই পথেই দাঁড়াবেন না বলে জানান। তবে তিনি কমিটির সভায় তার পদত্যাগের কোনো দিনক্ষণ উল্লেখ করেননি।

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছিলেন ব্রিটিশ আইন প্রণেতারা। এর আগে পার্লামেন্টে ১৬টি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও স্পিকার আটটি প্রস্তাব বেছে নিয়েছিলেন। বিতর্কের পর আইন-প্রণেতাদের প্রত্যেকের সামনে আটটি বিকল্প প্রস্তাব সংক্রান্ত কাগজ তুলে দেয়া হয়।

এরমধ্যে যে প্রস্তাবগুলোতে তাদের সম্মতি থাকবে, সেগুলোকে তারা ‘হ্যাঁ’ হিসেবে, আর যেগুলোতে তাদের আপত্তি থাকবে সেগুলোকে ‘না‌’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার পর টোরি নেতৃত্বের লড়াই হতে পারে বলে জানা গেছে। সেটা কবে নাগাদ হবে তা নির্ভর করবে রক্ষণশীল দলের ওপর। টোরি সদস্যদের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন।

ক্ষমতাসীন দলের কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দুই দফায় প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল ইইউয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে’র ব্রেক্সিট চুক্তি। এই চুক্তি নিয়ে নিজ দল রক্ষণশীল দলের সংসদ সদস্যদেরও বিরোধিতার মুখে পড়ছিলেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রী এবার তার চুক্তির পক্ষে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ ব্যাপারে ৩০০ জনেরও বেশি টোরি এমপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি এই কক্ষের প্রত্যেককে চুক্তিটির প্রতি সমর্থন দেয়া জন্য বলছি, যাতে আমরা আমাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব সম্পূর্ণ করতে পারি। যেন ব্রিটিশ জনগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা একটি মসৃণ ও সুষ্ঠু উপায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে পারি।

ইইউ থেকে ২৯ মার্চের পরিবর্তে ১২ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় নেতারা। মে’র চুক্তি অনুমোদন পেলে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা ২২ মে পর্যন্ত বাড়াতো ইইউ।

তবে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলে ১২ এপ্রিলেই কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে হবে। সূত্র: বিবিসি

বিভাগ - : আন্তর্জাতিক

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন