December 12, 2018
  • আওয়ামী লীগের প্রার্থী যেসব আসনে
  • সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ২৪২ আসনের প্রার্থীরা
  • মহাজোটের প্রার্থী ছাড়াও জাপার উন্মুক্ত প্রার্থীরা
  • হাইকোর্টে রিটে বৈধতা পেলেন ১১ প্রার্থী
  • সহজ জয়ে বাংলাদেশের সিরিজ শুরু
  • ‘আপিল চলাকালে দণ্ডিতরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না’
  • নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া
  • যে ৬ আসনে ইভিএমে ভোট হবে
  • গোপালগঞ্জ-৩ আসনে শেখ হাসিনার মনোনয়নপত্র দাখিল
  • ইসির সিদ্ধান্ত ইউপি ও পৌর আইনের সাথে সাংঘর্ষিক

বীরগঞ্জে বেড়েই চলেছে আত্মহত্যার প্রবনতা

নীল রতন সাহা নিপু,বীরগঞ্জ (দিনাজপুর): বীরগঞ্জে বেড়েই চলেছে আত্মহননের প্রবনতা। গত এক বছরে আত্মহননকারীর সংখ্যা ৩৮ জন । বিগত বছরের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশী। শংঙ্কিত সচেতন মহল ।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভায় গত এক বছরে ৩৮ জন আত্মহত্যা করেছে। থানার লিপিবদ্ধ তালিকা থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারী পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপা পাড়া গনেশ চন্দ্র সরকারের পুত্র বিষ্ণু কুমার দাস (১৮) বিষ পান করে, ১ ফেব্র“য়ারী পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামের লাল বাবু রায়ের পুত্র জলধর চন্দ্র রায় (২৮) ফাঁস দিয়ে, একই দিনে ভোগনগর গ্রামের ভোগনগর গ্রামের কালি রায়ের স্ত্রী রনিমা রাণী (২০) ফাঁস দিয়ে, ১১ ফেব্র“য়ারী ঠাকুরগাঁও জেলার নারগুন গ্রামের দেওয়া সরেনের পুত্র মন্টু সরেন (৩৫) বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সনকা গ্রামের শ্বশুর বাড়ীতে ফাঁস, ১৪ ফেব্র“য়ারী সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামের রাজেন্দ্র নাথ রায়ের পুত্র গোবিন্দ মোহন রায় (৩৯) ফাঁস দিয়ে, ২৪ ফেব্র“য়ারী একই ইউনিয়নের সমির উদ্দিনের স্ত্রী আনজু আরা বেগম (৩২) ফাঁস দিয়ে, ২৮ ফেব্র“য়ারী পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামের মোহন চানের স্ত্রী কালী বালা (৭০) ফাঁস দিয়ে, ৩০ মার্চ সাতোর ইউনিয়নের প্রাণ নগর গ্রামের কাসেম আলীর স্ত্রী গোলাপী বেগম (৬৫) ফাঁস দিয়ে, ৩ এপ্রিল সুজালপুর ইউনিয়নের মহুগাঁও গ্রামের মৃত রাম দাসের পুত্র যতিন চন্দ্র দাস (৬৫) ফাঁস দিয়ে, ১০ এপ্রিল খানসামা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া বেলপুকুর গ্রামের জনাব আলীর পুত্র ফরাদুল রেজা (২২) বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের রাস্তার ধারে গাছে ফাঁস দিয়ে, ১২ এপ্রিল পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডোমা গ্রামের শরিফ উদ্দিনের পুত্র নুর হোসেন (৩২) ফাঁস দিয়ে, ৪ মে মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের মৃত চুষ্টু চন্দ্র দাসের পুত্র খগেন চন্দ্র দাস (৬৫) ফাঁস দিয়ে, ১৬ মে মরিচা ইউনিয়নের নাগরী-সাগরী গ্রামের মিয়াজ উদ্দিনের পুত্র আজিজুল হক কান্দু (৬০) ফাঁস দিয়ে, ১৭ মে শিবরামপুর ইউনিয়নের আরাজী মদন সাঁকো গ্রামের ধীরেন চন্দ্র রায়ের পুত্র মানিক চন্দ্র রায় (২৬) ফাঁস দিয়ে, একই দিনে পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাঁপা পাড়া গ্রামের গনেশ চন্দ্রের পুত্র সত্যেন চন্দ্র শমু (১২) বিষ পান করে, ২১ মে মরিচা ইউনিয়নের বাসুদেব পুর গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র শাহরিয়ার হোসেন জুয়েল (২১) ফাঁস দিয়ে, ২৪ মে শিবরামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ধনগাঁও গ্রামের পোহাতু চন্দ্রের কন্যা সাবিত্রী রাণী রায় (১২) ফাঁস দিয়ে, ৬ জুন পাল্টাপুর ইউনিয়নের কুসুমতৈর গ্রামের গজেন্দ্র নাথ রায়ের কন্যা সুবর্ণা রায় (২১) বিষ পান করে, ১১ জুন একই ইউনিয়নের মধুবন পুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র উমর আলী (৫০) ফাঁস দিয়ে, ১১ জুলাই ভোগনগর ইউনিয়নের জিয়াখুড়ি গ্রামের আজাহারুল ইসলামের পুত্র আইনুল ইসলাম (১৫) ফাঁস দিয়ে, ১৫ জুলাই মরিচা ইউনিয়নের কাঠগড় গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী তপতি রাণী রায় (২৫) ফাঁস দিয়ে, ১৭ জুলাই পাল্টাপুর ইউনিয়নের মধুবন পুর গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা খাতুন (৪৫) ফাঁস দিয়ে, ২৫ জুলাই পলাশবাড়ী ইউনিয়নের হিরামনি গ্রামের বাবর আলীর কন্যা আমিনা খাতুন (৫০) ফাঁস দিয়ে, ৩০ জুলাই মরিচা ইউনিয়নের মরিচা গ্রামের আজিবুলের কন্যা শিউলী বেগম (১৪) ফাঁস দিয়ে, ৪ আগষ্ট সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী লিজা (২২) ঘুমের ঔষধ সেবন করে, ১৮ আগষ্ট মরিচা ইউনিয়নের খড়িকাদাম গ্রামের আলিম উদ্দিনের পুত্র কোবাদ আলী (৬০) ফাঁস দিয়ে, ২১ আগষ্ট পৌর শহরের বুধা রায়ের পুত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহনকারী আব্দুর রহিম (৭০) ফাঁস দিয়ে, ২৩ আগষ্ট শতগ্রাম ইউনিয়নের প্রসাদ পাড়া গ্রামের মৃত রবিউল ইসলাম রবির কন্যা মোছাঃ রেজওয়ানা ইসলাম (১৮) ফাঁস দিয়ে, ১৯ সেপ্টেম্বর শীবরামপুর ইউনিয়নের মদন সাকো গ্রামের প্রমোদ চন্দ্রের স্ত্রী মুক্তি রাণী (২২) ফাঁস দিয়ে, ১৫ অক্টোবর মরিচা ইউনিয়নের সুন্দরী হাট গাছ গ্রামের প্রেম হরি চন্দ্রের পুত্র হরি চন্দ্র (৫৪) ফাঁস দিয়ে, একই দিনে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের অবিনাশ মহন্তের কন্যা অর্পনা মহন্ত (১০) ফাঁস দিয়ে, ২৭ অক্টোবর একই ইউনিয়নের শীবপুর বাবু পাড়া গ্রামের অবিনাশ শীলের স্ত্রী মমতা রাণী শীল (২৭) ফাঁস দিয়ে, ২৯ অক্টোবর পাল্টাপুর ইউনিয়নের কাজল গ্রামের মৃত ভবেশ নাথের স্ত্রী চম্পা রাণী (৬৮) বিষ পান করে, ৫ নভেম্বর শতগ্রাম ইউনিয়নের রাঙ্গালীপাড়া গ্রামের ফেরাজুলের কন্যা মুন্নি আখতার (১৯) বিষ পান করে, ১১ নভেম্বর সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামের রমেশ বর্মনের স্ত্রী বেগম বেওয়া (৭০) ফাঁস দিয়ে, ২২ নভেম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপা পাড়া গ্রামের দুলাল ইসলামের স্ত্রী রহিমা খাতুন (২০) ফাঁস দিয়ে, ১৮ ডিসেম্বর নিজপাড়া ইউনিয়নের দামাইক্ষেত্র গ্রামের নিপেন চন্দ্র নাথের পুত্র অপু চন্দ্র রায় (১৪) ফাঁস দিয়ে, ২৩ ডিসেম্বর পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডোমা গ্রামের উমাপদ সেনের পুত্র জয়ন্ত সেন (১৯) ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আত্মহননকারীদের মধ্যে ১০ বছরের শিশু হতে ৭০ বছরের বৃদ্ধও রয়েছে। তবে এদের মধ্যে তরুন-তরুনীর সংখ্যাই বেশী বলে জানা গেছে। থানার একটি পরিসংখ্যানে জানা যায় ২০১১ইং সালে আত্মহনন কারীর সংখ্যা ছিল ১৮জন এবং ২০১০ইং ১৬ জন । ২০১২ইং সালের জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবিশ্বাস্যকর ভাবে আত্মহননকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮ জনে। দিন দিন আত্মহত্যার প্রবনতা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শঙ্কিত সচেতন মহল।
আত্মহননকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোঃ নজমূল ইসলাম জানান, সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক কলহ, বেকারত্বতা, মাদকাক্তি ও দারিদ্রতা, ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব এর প্রধান কারন।

বিভাগ - : আঞ্চলিক সংবাদ

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন