September 20, 2019
  • ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ক্ষতি সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা
  • ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা
  • আছাদুজ্জামানের বিদায়, ডিএমপির দায়িত্বে শফিকুল
  • সংশোধিত পাবলিক ইস্যু রুলসের গেজেট প্রকাশ
  • রিং সাইনের আইপিও লটারির ড্র তারিখ নির্ধারণ
  • রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সদস্য আটক
  • পর্যটনবান্ধব দেশের র‌্যাংকিংয়ে বড় সাফল্য বাংলাদেশের
  • উখিয়ার পাহাড়ে মাটি খুঁড়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
  • শেষ মুহূর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভারতের চন্দ্রযান ২
  • নোয়াখালীর ঠিকানায় পাসপোর্ট, তুরস্ক যাওয়ার চেষ্টা ৩ রোহিঙ্গার

নোয়াখালীর ঠিকানায় পাসপোর্ট, তুরস্ক যাওয়ার চেষ্টা ৩ রোহিঙ্গার

jj77
বাংলার নিউজ ডট কমঃ চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকা থেকে তিন রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র এবং পাসপোর্ট নিয়েছিল মিয়ানমারে মংডু জেলার অংচি গ্রামের আলী আহমদের ছেলে ইউসুফ (২৩) ও তার ভাই মুসা (২০)।

তারা দালাল ধরে নোয়াখালী থেকে পাসপোর্ট করিয়েছেন; তুরস্কে যাওয়ার আশায় তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন ভিসার আবেদন করতে। এ সময় বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের সিডিএ ১ নম্বর রোডের মাথায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেফতার করে আকবরশাহ থানা পুলিশ।

একই সময় আজিজ (২১) নামে মিয়ানমারের আরো এক নাগরিককে আটক হয়।

আকবরশাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ২০১৭ সালে আরাকানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর তারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। কক্সবাজারের উখিয়ায় খাইয়াংখালী হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকছিলেন তারা।

প্রতারণার মামলা দায়ের করে শুক্রবার আদালতে হাজির করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।

ওসি বলেন, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তিন তরুণকে আটক করার পর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু পাসপোর্টের ঠিকানা নিয়ে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে।

“এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে তারা রোহিঙ্গা। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তুরস্কে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করতে তারা ঢাকায় যাচ্ছিল।”

ওই তিন রোহিঙ্গা তরুণ পুলিশকে বলেছেন, ‘ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হওয়ার পর তারা ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। ওই সংগঠন থেকে তাদের বলা হয়, ঢাকায় তুরস্ক দূতাবাসে কাগজপত্র জমা দিলে তারা ভিসা পাবে, পরে সেখান থেকে ইউরোপে যেতে পারবে।

এরপর টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নুরুল আলম ওরফে এরশাদ নামে এক ‘দালালের’ সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই তিন তরুণ। এরশাদ তাদের পরিচয় করিয়ে দেন চকোরিয়ার পারভেজ নামের আরেক ‘দালালের’ সঙ্গে।

ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত নভেম্বর মাসে ওই তিনজনকে ফেনীতে নিয়ে যায় পারভেজ। সেখানে তাদের একটি হোটেলে রাখা হয় দুই। পরে তাদের নিযে যাওয়া হয় নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে।

“জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে কেউ তাদের কাছে কিছু জানতে চায়নি। তারা সেখানে সরাসরি আঙুলের ছাপ দিয়েছে। পরে পারভেজের কাছ থেকে তারা পাসপোর্ট বুঝে পেয়েছে।”

জব্দ করা পাসপোর্টে দেখা যায়, ইউসুফ আর মুসার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর। বাবার নাম আলী আহমেদ। স্থায়ী ঠিকানা লেখা হয়েছে নোয়াখালীর সেনবাগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নজরপুরে।

আজিজের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি। বাবার নাম জামির হোসেন। বাড়ির ঠিকানা লেখা হয়েছে নোয়াখালীর সেনবাগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজসেনবাগ।

তাদের সবার পাসপোর্টে জরুরি যোগাযোগের মোবাইল ফোন নম্বর ও জাতীয় সনদপত্রের নম্বরও দেয়া আছে।

আকবরশাহ থানা থানা পুলিশকে তারা বলেছেন, ইউসুফ ও মুসার পাসপোর্টের জন্য দালালকে এক লাখ পাঁচ হাজার এবং ৯০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আর আজিজ ৬০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলেছেন। ওই টাকা তাদের কাছ থেকে নিয়েছেন এরশাদ।

ওসি বলেন, “তারা তিনজনই ভালো ইংরেজি বলতে পারে। দুই ভাই বলেছে, তাদের বাবা মিয়ানমারে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পাসপোর্টে বাবা মায়ের যে নাম দেয়া হয়েছে, সেগুলো সঠিক বলে তারা দাবি করেছে। আমরা বিষয়গুলো যাচাই করে দেখছি।”

তিনজনের কাছেই বাংলাদেশি সিমসহ মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি বলেন, “কীভাবে তারা তা পেল, তাও আমরা জানার চেষ্টা করছি।”

বিভাগ - : জাতীয়

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন