October 20, 2019
  • কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী
  • যুবলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিটিং ডেকেছেন : ওবায়দুল কাদের
  • ভুল বোঝাবুঝিতেই সীমান্তে দুর্ঘটনা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ
  • তালিকাভুক্ত এবং আইপিও কোম্পানি অডিট করতে নতুন নির্দেশনা
  • ‘ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য আগাছা পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত’
  • লোমহর্ষক দুর্নীতির শেকড় আরো গভীরে: টিআইবি
  • ৪ উইকেটে জয় টাইগারদের
  • প্রথা ভেঙে বরের বাড়িতে এসে বিয়ে করলো কনে
  • জি কে শামীম ১০ দিনের রিমান্ডে

দুই ভাগ হলো কাশ্মীর, বিশেষ মর্যাদা বাতিল

mkka
বাংলার নিউজ ডট কমঃ ভারত শাসিত কাশ্মীরকে দুভাগে ভাগ করলো দেশটির সরকার। সোমবার (৫ আগস্ট) সংসদে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এতে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা আলাদা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উভয় অঞ্চলই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত হবে। তবে জম্মু ও কাশ্মীরের নিজস্ব একটি আইনসভা থাকবেও লাদাখের আইনসভা থাকবে না।

এসব প্রস্তাব আকারে রাজ্যসভায় পেশ করার কিছুক্ষণ পর ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজনাথ কোবিন্দ এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম। রাজ্যসভায় ভাষণ শেষে লোকসভায় ভাষণ দেবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের গণমাধ্যম জিনিউজ জানায়, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে দিল কেন্দ্র। ইতোমধ্যেই ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমেই কাশ্মীর ইস্যুতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এর বিরোধিতায় রাজ্যসভায় চলছে তুমুল হট্টগোল।

প্রস্তাবের চরম বিরোধিতা করছেন বিরোধীরা। তাদের দাবি, ৩৭০ ধারা তুলে দিলে বিশেষ সুবিধা হারাবে কাশ্মীর। এর পাশাপাশি কাশ্মীরে ৩৫এ ধারাও তুলে দিতে চায় কেন্দ্র।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে প্রশাসন। গোটা রাজ্যে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। বিষয়টি নিয়ে নিজ বাসভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? এরপর কাশ্মীর ইস্যুতে ঠিক কী পদক্ষেপ করা হতে পারে? এসবই সংসদে খোলসা করবেন অমিত শাহ। এ নিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ।

গৃহবন্দী করা হয়েছে রাজ্যের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। গৃহবন্দী করা হয়েছে রাজ্যের অন্য আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা সাজ্জাদ লোনকে। ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে ডিটিএইচ পরিষেবা ও টেলি যোগাযোগ।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নয়- এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা আছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো ‘দেশীয় রাজ্য’ পায়নি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়। এছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্যান্য ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়।

কয়েক দিন ধরেই কাশ্মীরে চরম উত্তেজনা চলছিল। আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছিলেন। শনিবার পর্যটকদের কাশ্মীর ত্যাগের নির্দেশ দেয় সরকার। এ ছাড়া মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা গোয়েন্দা সূত্রে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা হবে বলে জানতে পেরেছে। তবে অনেকেই বলছেন সংবিধানে কাশ্মীরে বিশেষ অধিকার সংকলিত ৩৫-ক এবং ৩৭০ ধারা বাতিলের চেষ্টা করছে সরকার। তবে কাশ্মীরের রাজ্যপাল এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও কেন্দ্রীয় সরকার এ নিয়ে চুপ ছিল।

রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা বলছিলেন, সেনা মোতায়েনের পেছনে সরকারের অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে। সোমবার তাদের শঙ্কাই সত্য বলে প্রমাণিত হলো। রোববার সন্ধ্যায় একটি সূত্রে শোনা যায়, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশকে অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য সে কথা স্বীকার করেনি সরকার। সূত্র: জিনিউজ।

বিভাগ - : আন্তর্জাতিক

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন